ডিজিটাল চিন্তা দ্বারা
একটা সময় পরে গিয়ে মানুষ আসলে সুন্দরী মেয়ে কিংবা বড়োলোক ছেলে আর খোঁজে না, বরং গাছের মতন ধীর-স্থির-দায়িত্বশীল একজন মানুষ খোঁজে, যার ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া যায়।
যে প্লেবয় ছেলেটি তেরোটা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘোরে, সে-ও দিনশেষে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিতে দিতে একজন বিশ্বস্ত মানুষ চায়। যে মেয়েটি পোশাকের মতো দুদিন পর পর বয়ফ্রেন্ড চেইন্জ করে, সে-ও একসময় ক্লান্ত হয়ে মনে মনে খুব করে স্থায়ী কাউকে চায়।
পুরুষ চায়, এমন কোনও নারী তার জীবনে সেইফ-হোম কিংবা কমফোর্ট-হোম হয়ে আসুক, যাকে সে সবটা দিয়ে বিশ্বাস করতে পারবে, যে তার বাউন্ডুলে জীবনটাকে একটু গুছিয়ে দেবে।
নারীও চায়, জীবনে এমন কেউ আসুক, যে মানুষটি তার জীবনে গাছের মতন শেকড় গেড়ে থেকে যাবে, যে তার এলোমেলো জীবনটাকে সাজিয়ে দেবে।
দিনশেষে মানুষ থিতু হতে চায়।
পুরুষ চায় স্বস্তি, মায়ের মতো স্নেহ। নারী চায় ভরসা, বাবার মতো ছায়া।
প্রেম, ভালোবাসা কিংবা যৌনতা সবই মিলে, প্রায়ই কেবল বিশ্বাস বা ভরসাটা আর মিলে না। এক বালতি দুধে একফোঁটা লেবুর রসের মতো গণ্ডগোলটা ঠিক এখানেই বেধে যায়, এখানেই হিসেবের খাতায় গরমিলটা হয়ে যায়। এখান থেকেই হয়ে যায় একাকিত্ব আর শূন্যতার সূত্রপাত।
এজন্যই ডজনে ডজনে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড থাকার পরেও কেউ কেউ ভীষণ রকমের শূন্য, আবার কেউ কেউ স্রেফ একজন মানুষ নিয়েও শতভাগ, কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আবার কেউবা জীবনে সঠিক মানুষটি ঠিকই আসবে, তার অপেক্ষায় বছরের পর বছর একা একা কাটিয়ে দেয়।
জীবন একদিকে দেয়, আরেক দিকে কেড়েও নেয়। যোগে বিয়োগে হিসেব অবশ্য মিলেই যায়।
মন্তব্যসমূহ